ঢাকা, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২০ || ৮ কার্তিক ১৪২৭

পেয়াজ কেলেংকারীতে পেয়াজ চাষীগণ হুমকির মুখে

ক্যাটাগরি : অর্থনীতি প্রকাশিত: ৮০৮ঘণ্টা পূর্বে   ২৬


পেয়াজ কেলেংকারীতে পেয়াজ চাষীগণ হুমকির মুখে

ইমদাদুল হক (যশোর জেলা প্রতিনিধি ):

চলতি বছর ও গত বছরের পিয়াজের চাঞ্চল্যাকর ঘটনা গুলি জাদু টোনার থেকে নেহাত কম নয়।বিষয়টি ও ভাইরাল হয়েছে সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে।এগুলো নিয়ে রীতিমতো চলেছে একের পর এক হাস্যকর পোস্ট এবং সেগুলো লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার।পিয়াজের অবিশ্বাস্য উর্ধগতির জন্যই মূলত এ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে সাধারণ ক্রেতা ও সকল বাংলাদেশী পেয়াজ চাষীগণ।

বাঙ্গালীর খাদ্য তালিকায় পিয়াজ একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। পরিমানের দিক দিয়ে পিয়াজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মসলা। পিয়াজ সাধারনত মসলা হিসাবে ব্যবহৃত হলেও সবজি ও সালাদ হিসাবেও পিয়াজের ব্যবহার সব দেশেই প্রচলিত আছে। অন্যান্য অনেক মসলার ন্যায় পেয়াজ কেবল খাদ্যদ্রব্যকে আকর্ষণীয় ও খাদ্যের স্বাদই বৃদ্ধি করে না, খাদ্যের পুষ্টি গুনও বৃদ্ধি করে এবং এর ঔষধিগুনও অপরিসীম। ক্ষত প্রতিষেধক হিসাবে, সর্দি-কাশিতে এবং আমাশয় নিরাময়ে পিয়াজ ব্যবহৃত হয়। পশ্চিম এশিয়া পেঁয়াজের উৎপত্তি স্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মিশর ও স্পেন বিশ্বের প্রধান চারটি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশ। এ ফসলটি ১.৪১ লক্ষ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ মে. টন উৎপাদিত হয়। অথচ আমাদের দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ১৪.৬০ লক্ষ মে.টন। বাংলাদেশের সমগ্র উত্তরবঙ্গ, কুষ্টিয়া, যশোহর ও ফরিদপুর অঞ্চলে প্রচুর পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়।

অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের আশায় পাইকারি ও খুচরা ব্যাবসায়ীরা মিলিত হয়ে পেয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকে।এবং প্রতি কেজি দরে তারা তাদের অতিরিক্ত লভ্যাংশ টাকে প্রাধান্য দেয়।তারা নিয়মিত ভাবে এক এক এলাকায় এক একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ফেলে।এবং সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূলত তারা সারা দেশেই পেয়াজ কেলংকারী করে থাকে।

এক্ষেত্রে পেয়াজ চাষী গণ পড়েছে হুমকির মুখে।সীমিত আকারে তাদের লভ্যাংশ টা বৃদ্ধি পেলেও মানুষের চাহিদা কমে যাচ্ছে দেশীয় পেয়াজের উপর থেকে।কারণ দেশীয় পেয়াজের প্রতি কেজি দরের মূল্য থেকে বাইরের আমদানিকৃত পেয়াজের মূল্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে কম।তাই দেশীয় পেয়াজের চাহিদা কমার সাথে তাদের  জীবিকা নির্বাহ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষক গণ ধারণা করছেন পেয়াজের এই পরিস্থিতি স্বাবাভিক না হলে সারা দেশে পেয়াজ চাষীর সংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকবে।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: