ঢাকা, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২০ || ৮ কার্তিক ১৪২৭

""গোলের রেকর্ড করে বার্সেলোনাকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ""

ক্যাটাগরি : খেলা প্রকাশিত: ১৬৪৫ঘণ্টা পূর্বে   ৭৫


""গোলের রেকর্ড করে বার্সেলোনাকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ""

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে গতকাল রাতে পর্তুগালের লিসবনে বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ । জোড়া গোল করেন টমাস মুলার ও ফিলিপে কৌতিনিয়ো। একটি করে রবের্ত লেভানদোভস্কি, সের্গে জিনাব্রি, ইভান পেরিসিচ ও জশুয়া কিমিচ।

খেলার চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় বায়ার্ন। পেরিসিচের কাছ থেকে বল পেয়ে লেভানদোভস্কিকে খুঁজে নেন মুলার। ফিরতি পাস পেয়ে বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর পাল্টা-আক্রমণে ক্ষণিকের জন্য বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়নদের চেপে ধরে বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের ভুলে সপ্তম মিনিটে সমতাসূচক গোলও পেয়ে যায় তারা। ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের ক্রসে তেমন কোনো হুমকি ছিল না, সেটাই বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন দাভিদ আলাবা।
২২তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বায়ার্ন। জিনাব্রির কাছ থেকে বল পাওয়া পেরিসিচকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যায়নি বার্সেলোনার কেউ। যথেষ্ট সময় পেয়ে বুলেট গতির কোনাকুনি শট নেন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার, বল মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের বুটে লেগে জালে জড়ায়।
২৭তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় বায়ার্ন। ক্লেমো লংলেকে পেছনে ফেলে জিনাব্রি খুঁজে নেন জাল। এই গোলের আগে-পরে দুটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন লেভানদোভস্কি।
বায়ার্নের একের পর এক আক্রমণে যেন দিশা হারিয়ে ফেলে বার্সেলোনা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩১তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় বায়ার্ন। কিমিচের নিচু ক্রসে লংলেকে এড়িয়ে জাল খুঁজে নেন মুলার।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে এর আগে কখনও কোনো দল এতো আগে চার গোল হজম করেনি। প্রতিযোগিতাটিতে এই প্রথম বিরতিতে যাওয়ার আগে চারবার বল গেল বার্সেলোনার জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ানোর দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট করে বায়ার্ন। অন্যদিকে, ৫৭তম মিনিটে নিজেদের প্রথম সুযোগে ব্যবধান কমায় বার্সেলোনা। জর্দি আলবার কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ দক্ষতায় বায়ার্ন ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন সুয়ারেস।
খানিক পর আবার ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় বায়ার্ন। নেলসন সেমেদোকে এড়িয়ে আলফানসো ডেভিস বাইলাইন থেকে কাট ব্যাক করলে ছুটে গিয়ে জাল খুঁজে নেন কিমিচ।
 ম্যাচের ৮২তম মিনিট শেষ হয় অপেক্ষা। কৌতিনিয়োর চমৎকার ক্রসে জাল খুঁজে নেন পোলিশ স্ট্রাইকার লেভানদোভস্কি। আসরে এটি তার চতুদর্শ গোল। মৌসুমে ৫৪তম।
লেভানদোভস্কির গোলে অবদান রাখা কৌতিনিয়ো ৮৫ ও ৮৯তম জালের দেখা পান। বার্সেলোনা থেকে জার্মান দলটিতে ধারে খেলা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার উদযাপন করেননি গোল।

দুই অর্ধে চারটি করে গোল হজম করে বিব্রতকর হারে শূন্য হাতে মৌসুম শেষ করল বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের গতি, কৌশল ও সৃষ্টিশীলতার কোনো জবাব দিতে পারেনি তারা। রক্ষণ ছিল ভঙ্গুর, মাঝমাঠ ছন্নছাড়া, বিবর্ণ আক্রমণভাগ-এমন চেহারার দলটিকে নিয়ে যেন ছেলেখেলা করল বায়ার্ন।
আগের ম্যাচে নাপোলির বিপক্ষে দারুণ ফুটবল খেলা বার্সেলোনার জন্য যেন ছিল দুঃস্বপ্নের রাত। ফুটবল ইতিহাসে দলটিকে এমন করুণ চেহারায় খুব বেশি দেখা যায়নি। 
আগের রাউন্ডে দুই লেগ মিলিয়ে চেলসির জালে ৭ গোল করেছিল বায়ার্ন। এবার প্রথম দল হিসেবে ইউরোপ সেরার মঞ্চে নক আউট পর্বের কোনো ম্যাচে ৮ গোল করল তারা। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দল হিসেবে বিপরীত অভিজ্ঞতা হলো বার্সেলোনার।
ম্যানচেস্টার সিটি ও অলিম্পিক লিঁওর মধ্যে জয়ী দলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে খেলবে বায়ার্ন। 


আমি/সকডক

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: