ঢাকা, ২৫ নভেম্বর বুধবার, ২০২০ || ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রীকে তিন বাহীনীর প্রধানগণের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৮৬ঘণ্টা পূর্বে   ৯৭


সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রীকে তিন বাহীনীর প্রধানগণের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান

মোহাম্মদ হাসানঃ আজ সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গনভবনে “সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০” উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় তিন বাহিনীর প্রধানগণ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা উপহার দেন।

আজ ২১ নভেম্বর শনিবার অপরাহ্নে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত প্রধানমন্ত্রীর সাথে সশস্ত্রবাহিনী দিবসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শতাব্দীর ভয়াবহ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির শুরু থেকে এ দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসায় তিন বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর একটি বিশেষ গৌরবময় দিন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের এ দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের সূচনা করেছিলেন । মুক্তিবাহিনী, বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যগণ ও দেশপ্রেমিক জনতা এই সমন্বিত আক্রমণে একতাবদ্ধ হন। একপর্যায়ে দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।"

তিনি আরও বলেন, "হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর "সশস্ত্র বাহিনী দিবস" পালন করা হয়।’ স্বাধীনতার পর জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য তিনি মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ আরও অনেক সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট গঠন করেন। তিনি চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটি ঈসা খাঁ উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়া থেকে নৌবাহিনীর জন্য দুটি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়। বিমান বাহিনীর জন্য তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সুপারসনিক মিগ-২১ জঙ্গি বিমানসহ হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও রাডার সংগ্রহ করেন।"

এছাড়াও ঐতিহাসিক এ দিনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সব বীর শহীদ এবং মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দিবসটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য আর লাল-সবুজের পতাকা।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
Search

সারাদেশের সংবাদ