ঢাকা, ২ ডিসেম্বর বুধবার, ২০২০ || ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছেঃ শেখ হাসিনা

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৮৪৫ঘণ্টা পূর্বে   ৭২


সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছেঃ শেখ হাসিনা

মোহাম্মদ হাসানঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  তিনটি বিগ্রেড ৫টি ইউনিটের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

আজ ২৮ অক্টোবর সকালে ব‌রিশা‌লে শেখ হা‌সিনা সেনানিবা‌সে ভিডিও টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "২০২০ সাল বাঙালির জীবনে এক অনন্য বছর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশের জনগণের জন্য এ বছরটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। যখন এমন ব্যাপক আয়োজন চলছে, তখনই বিশ্বব্যাপী এক মহামারী দেখা দিল। করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ নামক এক সংক্রামক ব্যাধি বিশ্ববাসীকে এমনভাবে সংক্রমিত করছে যে, বিশ্বের প্রায় সকল দেশই এর দ্বারা আক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশও এ ভাইরাস থেকে মুক্ত নয়।"

 

শেখ হাসিনা বলেন, "১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা ঘোষণা দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন জাতির পিতা, আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, শ্রদ্ধা জানাই।জাতির পিতা এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁর যে স্বপ্ন ছিল—ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার, তা তিনি করে যেতে পারেননি। কাজেই সেই কর্তব্য এখন সবার। এই দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।"

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতিতে দিক-নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, "পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদী সমগ্র দেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সেনাবাহিনীকেও সেই মোতাবেক সক্ষমতার দিক থেকে স্বতন্ত্র ও প্রশাসনিকভাবে সামর্থবান তিনটি কমান্ডে নিয়োজিত হতে হবে।"

 

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী সেই প্রতিরক্ষা নীতি নির্দেশনার আলোকেই আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি জ্ঞানভিত্তিক পেশাদার বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের নৈতিক ও মানসিক শক্তি এবং পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছি পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী আধুনিকীকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় সেনাবাহিনীতে নতুন নতুন পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা সেনাবাহিনীতে তিনটি নতুন ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি।"

 

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ একটা ব-দ্বীপ। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা ডেল্টা প্লান ২১০০ প্রণয়ন করেছি। ইতিমধ্যে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। আর এর জন্য সব চেয়ে বেশি দরকার হবে দক্ষ জনগোষ্ঠি সৃষ্টি করা।’

 

বক্তব্যের সমাপ্তি টানতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান, সকল  সেনা সদস্যদের আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন,"আসন্ন শীত মওসুমে করোনার আর একটি ধাক্কা আসতে পারে সেটা মোকাবিলায় সকলকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।"

 

এসময় অপর প্রান্তে সেনাবাহিনী প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তা,সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গগণ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন
Search

সারাদেশের সংবাদ