ঢাকা, ২৫ নভেম্বর বুধবার, ২০২০ || ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

"জল পড় পাতা নড়ে" ছন্দের প্রেমে পড়া কবি গুরুর নোভেল লাভ আজ: মোহাম্মদ হাসান

ক্যাটাগরি : মুক্তমত প্রকাশিত: ২২৭ঘণ্টা পূর্বে   ৬৯


"জল পড় পাতা নড়ে"  ছন্দের প্রেমে পড়া কবি গুরুর নোভেল লাভ আজ: মোহাম্মদ হাসান

জল পড়ে, পাতা নড়ে বাক্যটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সৃষ্টি। তবে এই বাক্যটি আধুনিক কালের শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাল্যকালকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাঁর বয়স যখন সাত-আট তখন থকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম কবিতাতেই এই লাইনটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন- “জল পড়ে, পাতা নড়ে, পাগলা হাতি মাথা নাড়ে।” শোনা যায় এ বাকাংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পছন্দের শব্দ তালিকার মধ্যে অন্যতম। পবরর্তীকালে এ শব্দটি বা বাক্যাংশটি অনেকে অনেকভাবে ব্যবহার করেছেন। এ নামে  একটি উপন্যাস আছেও।


সেই "জল পড়ে পাতা নড়ে" ছন্দের তালে দোল খেতে খেতে আধুনিক কবি,প্রেমের কবি, অতপর বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজকের এই দিনে ১৯১৩ সালে "নোবেল পুরস্কার " পেয়েছিলেন ১৫ নভেম্বর।


২০১৭ সালের ৯মে বাংলানিউজ টুয়ান্টিফোর ডটকমে " রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার লাভ" শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনমতে, ১৯১২ সালে ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্যা সিস্টার নিবেদিতার ইংরেজিতে অনুবাদ করা "কাবুলিওয়ালা" গল্প।


উইলিয়াম রোটেনস্টাইন সেই লেখা পড়ে অবাক হয়ে যান। এর আগে পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন সাহিত্য কর্ম সম্পর্কে পরিচিত ছিলেন না।


এরপর উইলিয়াম রোটেনস্টাইনের অনুরোধে বিখ্যাত শিক্ষক অজিত চক্রবর্তী মহাশয় কবির কিছু লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ করে তার কাছে পাঠান। আরো অবাক হন উইলিয়াম রোটেনস্টাইন। তাকে কবিগুরু সাহিত্য চর্চা সম্পর্কে লন্ডনে বিশদে জানান প্রমথলাল সেন ও ব্রজেন্দ্রনাথ শীল।


এরপরই উইলিয়াম রোটেনস্টাইনের আমন্ত্রণে লন্ডন পাড়ি দেন কবি। জাহাজে তিনি গীতাঞ্জলি-এর কিছু কবিতা অনুবাদ করেন। সঙ্গে অনুবাদ করেন শিলাইদহে বসে তার লেখা আরও কিছু  কবিতা। সেই কবিতা পড়ে অভিভূত হন উইলিয়াম রোটেনস্টাইন। তিনি কবির খাতাটি পাঠান আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসসহ একাধিক সাহিত্য সমালোচককে। তিনি

জর্জ বার্নডশকে চিঠি লিখে কবিগুরুর কবিতা পড়ার অনুরোধ জানান।


লন্ডনে এক সাহিত্য সভায় মিলিত হন কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসসহ বেশ কিছু কবি সাহিত্যিক ও লেখক। কবিগুরুর অনুবাদ করা কবিতাগুলি শুনে তারা একের পর এক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাঠাতে থাকেন। এক দিনেই লন্ডনের সাহিত্য মহলে ছড়িয়ে পরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের নাম।


নোবেল কমিটির নিয়ম অনুসারে নোবেল পুরস্কারের জন্য নাম সুপারিশ করতে পারেন বিভিন্ন দেশের স্বীকৃত সংস্থার সভ্যরা অথবা কোন নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তি। কবিগুরুর কবিতা পড়ে মুগ্ধ হওয়া স্টার্জমুর মহাশয়  ছিলেন রয়েল সোয়াইটি অব লিটারেচার অব ইউ কে-এর সদস্য। তিনি নোবেল পুরস্কারের জন্য কবিগুরুর নাম সুপারিশ করেন। কিন্তু এ কথা কবিগুরুও জানতেন না। সম্পূর্ণ গোপনে কবির নাম সুপারিশ করেন স্টার্জমুর।


বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ২৮ জনের নামে সেই বছর সুপারিশ এসেছিল। সুইডিশ একাডেমির সদস্য হলেও স্টার্জমুর-এর হাতে ছিল একমাত্র গীতাঞ্জলি-এর অনুবাদ করা বইটি। তৎকালীন নোবেল কমিটির সভাপতি হোয়ানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামের বিরোধিতা করে বলেন, একটি মাত্র বই দেখে বিচার করা সম্ভব নয়।


নোবেল কমিটিতে ছিলেন প্রাচ্যবিদ এসাইস টেঙ্গার। তিনি বাঙলা ভাষা জানতেন। তিনি কমিটির সদস্যদের প্রভাবিত করেন। সুইডিশ কবি হাইডেস্টাম গীতাঞ্জলি-এর সুইডিশ অনুবাদ পড়ে মুগ্ধ হন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নোবেল কমিটিকে চিঠি লেখেন। অবশেষে ১৯১৩ সালে নোবেল কমিটির বিচারে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম ঘোষিত হয়।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন
Search

সারাদেশের সংবাদ