ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৩:৩৪ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

১২ বছর অপেক্ষার পর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু চালু

প্রকাশিত : ০৩:৩৪ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

১২ বছরের অপেক্ষার অবসান, চীন-উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু চালু

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট :

দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার পর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চালু হয়েছে নতুন সড়ক সেতু। দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই অবকাঠামো চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্য সীমিত থাকলেও দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের ড্যানডং শহর থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি দুই দেশের স্থলবাণিজ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করবে। ২০১৪ সালে এটি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সড়ক ও শুল্ক অবকাঠামোর কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে ছিল।

নতুন সেতুটি পুরোনো চীন-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরোনো সেতুটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এক ভিডিও বার্তায় সেতুটিকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, নতুন এই স্থাপনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও বলেছেন, সেতুটি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং জনগণের পারস্পরিক যাতায়াত সহজ করবে।

বাণিজ্য বাড়লেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞার বাধা

গত বছর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এই বাণিজ্যের বড় অংশই ছিল উত্তর কোরিয়ায় চীনের পণ্য রপ্তানি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সেতু চালু হওয়ার ফলে বাণিজ্য দ্রুত বেড়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে আইনি ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

হাঙ্কুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের অধ্যাপক ক্যাং জুন-ইয়ংয়ের মতে, উত্তর কোরিয়া তার অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনা পণ্যের প্রভাব নিয়েও সতর্ক। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও তা ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, চীনের নতুন উদ্যোগ

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও কার্যকর রয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অতীতে বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। এর পাশাপাশি মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চীনও পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। নতুন সেতুটি সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের অংশ হতে পারে।

সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ

মহামারির সময় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বিমান ও রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দুই দেশের মানুষের যাতায়াত এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ।

সিউলের ইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলির মতে, নতুন ইয়ালু নদী সেতু চালু হওয়া দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তাঁর বিশ্লেষণে, চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের উত্তর কোরিয়া সফর এবং নতুন যোগাযোগ অবকাঠামোর অগ্রগতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাস্তব উন্নয়নের দিকটি তুলে ধরে।

তবে নতুন সেতু চালুর ফলে বাণিজ্য কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com