ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৯:৪৭ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

বরিশালের বানারীপাড়ায় ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত : ০৯:৪৭ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বানারীপাড়ায় ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

ডিজিটাল রিপোর্ট :

বরিশালের বানারীপাড়ায় মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে জোর করে সাবেক স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপপরিদর্শকসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক রাজমিস্ত্রি। মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক এ আদেশ দেন। মামলার বাদী জালিছ মাহমুদ বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা।

মামলায় বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদকে নির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

সাবেক স্ত্রীর মামলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জালিছ মাহমুদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী পপি আক্তারের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে পপি তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় একটি মামলা করেন, যার নম্বর সিআর ৪২৩/২০২৫।

এজাহারে বলা হয়েছে, বকেয়া খোরপোশ ও দেনমোহরসহ পাওনা পরিশোধের পর বিচার শেষে ওই মামলায় খালাস পান জালিছ।

জালিছ ও পপি আক্তারের দাম্পত্য জীবনে হুমায়রা জান্নাত নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুটির বয়স প্রায় তিন বছর। বিবাহবিচ্ছেদের পর পপি অন্যত্র বিয়ে করলে শিশুটি দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে বসবাস করছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে ওসির নির্দেশে এসআই জাহিদ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে জালিছকে আটক করতে যান। বাড়ির সামনের সড়কে তাঁকে পেয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

এ সময় অন্য পুলিশ সদস্যরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, সাবেক স্ত্রীর দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে জোর করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর তাঁর সম্মতি ছাড়াই কন্যাসন্তানকে সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

চিকিৎসা শেষে আদালতে মামলা

থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জালিছ মাহমুদ বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন।

মামলায় আইনগত অধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী।

অভিযোগ অস্বীকার ওসির

অভিযোগ অস্বীকার করে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, শিশুটির বয়স দুই বছর আট মাস এবং সে গুরুতর অসুস্থ। তার চিকিৎসা ও মাতৃস্নেহ প্রয়োজন বিবেচনা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি। পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারিত হবে।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com