নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজতে সমুদ্রে ডুব দিচ্ছেন জাপানের ইয়াসুও তাকামাতসু
২০১১ সালের ভয়াবহ সুনামিতে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পরও আশা ছাড়েননি জাপানের ইয়াসুও তাকামাতসু। প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার আশায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাগরের তলদেশে ডুব দিয়ে চলেছেন তিনি।
২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা ভয়াবহ সুনামি অসংখ্য মানুষের জীবন ওলটপালট করে দেয়। সেই দুর্যোগে নিখোঁজ হন ইয়াসুও তাকামাতসুর স্ত্রী ইউকো। মিয়াগি অঞ্চলের ওনাগাওয়া বন্দরে একটি ব্যাংকের ছাদে আটকে থাকার সময় স্বামীকে শেষ বার্তায় তিনি জানতে চেয়েছিলেন, তিনি নিরাপদ আছেন কি না। একই সঙ্গে বাড়ি ফেরার আকুতিও জানিয়েছিলেন।
স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার খবর ইয়াসুওর জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। পরে তিনি জানতে পারেন, সুনামির পানিতে ভেসে গিয়েছিলেন ইউকো। এই সংবাদে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর মরদেহ খুঁজে না পাওয়ায় তার মনে একসময় নতুন সংকল্প জন্ম নেয়—সমুদ্রের গভীরে নেমে হলেও ইউকোকে খুঁজবেন।
সেই উদ্দেশ্যেই স্কুবা ডাইভিং শেখেন ইয়াসুও। এরপর বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত সমুদ্রে ডুব দিচ্ছেন তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এই যাত্রায় তার ডাইভের সংখ্যা ৭৬০ ছাড়িয়ে গেছে।
তবে ইয়াসুওর কাছে সমুদ্রের নিচে যাওয়া কেবল নিখোঁজ স্ত্রীকে খোঁজার অভিযান নয়। এটি তার কাছে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে মানসিকভাবে সংযুক্ত থাকারও একটি উপায়। তার বিশ্বাস, সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়ে গেলে হয়তো একদিন স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাবেন।
ডুব দেওয়ার সময় সুনামির রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ দেখলে বাস্তবতার কঠিন দিকটি তাকে বারবার তাড়া করে। এসব ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে ইউকোর পক্ষে বেঁচে ফিরে আসা কতটা অসম্ভব ছিল, তা উপলব্ধি করে আবেগ সামলাতে পারেন না তিনি।
তারপরও সমুদ্রের প্রতি কোনো বিদ্বেষ পোষণ করেন না ইয়াসুও। বরং সেখানে স্ত্রীর উপস্থিতি অনুভব করার মধ্য দিয়ে শোকের সঙ্গে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নিয়েছেন তিনি।
ইয়াসুওর কাছে স্ত্রীর স্মৃতি শুধু অতীতের কোনো অধ্যায় নয়। কবরের সামনে দাঁড়িয়ে স্মরণ করার বদলে তিনি যেন সমুদ্রের গভীরে নেমে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। এই অনুভূতিই তাকে বারবার পানির নিচে ফিরে যেতে শক্তি জোগায়।
একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে ফিরে পাওয়ার আশা হয়তো আজও অপূর্ণ। তবু বছরের পর বছর ধরে ইয়াসুওর এই অনুসন্ধান প্রিয়জন হারানোর বেদনা, গভীর ভালোবাসা এবং স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার এক হৃদয়স্পর্শী গল্প হয়ে আছে।
সূত্র: বিবিসি
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com