সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল ও জালিয়াতির মাধ্যমে বেহাত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার শতক সরকারি জমির মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার শতকের রেকর্ড স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না।
তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের নথিতে জঙ্গল সলিমপুরে মোট ৩১শ একর বা প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার শতক খাসজমির হিসাব রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের রেকর্ডে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮১ শতক জমির তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে বিপুল পরিমাণ জমির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় সরকারি জমি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি এবং পরবর্তীতে নামজারি করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে, বন উজাড় করে এবং প্লট তৈরি করে জমি বিক্রি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একজন দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানার নামে রেজিস্ট্রি ও নামজারির ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, প্রকৃত জমির তথ্য গোপন করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করলে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএস জরিপ অনুযায়ী খাসজমির ১৪০টি দাগ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। এর মধ্যে পাহাড়, টিলা, খাল, ছড়া, জঙ্গল, রাস্তা, কবরস্থান, মিল এলাকা ও অন্যান্য শ্রেণিভুক্ত জমি রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের মোট হিসাবের সঙ্গে স্থানীয় রেকর্ডের উল্লেখযোগ্য অমিল দেখা গেছে।
জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা ও ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ পাহাড় ও টিলা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় কেটে মাটি ও বালু সরিয়ে প্লট তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সরকারি খাসজমি উদ্ধারে অতীতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় জঙ্গল সলিমপুরের ভূমি দখল, পাহাড় ধ্বংস এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে প্রভাবশালী মহলের কারণে দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকাজুড়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ড রয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ জমি বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি চেয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমদ জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হবে। কারা কীভাবে সেখানে জমি দখল বা ব্যবহার করছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানিয়েছেন, স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ৯১০ একর জমির তথ্য রয়েছে। বাকি জমির বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com