বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। এরপর শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি পেরিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন মির্জা ফখরুল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি সংগঠনটির এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সরকারি চাকরিতে থাকাকালে ১৯৭৯ সালের দিকে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। এর দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর দলটির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এর আগে ও পরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। প্রায় পাঁচ বছর এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও দলীয় বক্তব্যে অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন মির্জা ফখরুল।
২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর থেকে দলটির শীর্ষ সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস ও অসুস্থতার সময় এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময়ে দেশে থেকে দলীয় সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের সময় মির্জা ফখরুল একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি সময় বিরোধী দলের কর্মসূচি ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বিভিন্ন সময়ের হিসাব অনুযায়ী, রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল অন্তত সাড়ে ৪০০ দিন কারাবরণ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাহাত আরা বেগমকে বিয়ে করেছেন। তাদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com