ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৬:৩১ এএম, ২৩ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ: মেহেরপুরে ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত : ০৬:৩১ এএম, ২৩ আগস্ট ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

নিউজ ডেস্ক :

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ: ইউপি সদস্য কালুর যাবজ্জীবন

মেহেরপুরে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের মামলায় পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কলিম উদ্দিন কালুকে (৫১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ সেখ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণেই অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান আসামি কলিম উদ্দিন কালু। পরে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আদালত একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা রয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য।

যেভাবে ঘটনা ঘটে

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই প্রতিবন্ধী নারী খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় কলিম উদ্দিন কালু ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী চিৎকার করলে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে হুমকি দিয়ে কালু সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার তিন দিন পর, ২১ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খান মারুফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর কাপড়চোপড় এবং আসামি ও ভুক্তভোগীর সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা ঢাকার সিআইডিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

‘মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা’

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহীন ও অ্যাডভোকেট এ কে এম শফিকুল আলম।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালু তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বর্তমান ইউপি সদস্য হওয়ায় তিনি মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়া এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে সাক্ষীদের হুমকি ও বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী। তবে আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com