ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৫:৪৮ এএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

১০ লাখ টাকা খরচ করেও একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে পারলেন না বাবা

প্রকাশিত : ০৫:৪৮ এএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী আরশাদ উল্লাহ চৌধুরী মাহিন। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক :

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী আরশাদ উল্লাহ চৌধুরী মাহিন (১৮) মারা গেছেন। একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকার বেশি খরচ করেও শেষ পর্যন্ত তাকে হারিয়েছেন বাবা মাহবুবুল বশর চৌধুরী।

মাহবুবুল বশর চট্টগ্রাম বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত স্টোরম্যান। তাঁর দুই মেয়ের পর জন্ম নেওয়া ছেলে আরশাদ ছিল পরিবারের সবার আদরের। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছেলেকেই ঘিরে ছিল তাঁর অবসরজীবনের নানা স্বপ্ন। এইচএসসি শেষ করে ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল পরিবারের। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্নেরই করুণ পরিণতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আরশাদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের শোকে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মাহবুবুল বশর ও তাঁর স্ত্রী নুর বেগম।

এর আগে গত বুধবার দুপুরে হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই গাড়ির ৯ জন আহত হন। ঘটনাস্থলেই সিএনজি অটোরিকশার চালক মুহাম্মদ এরশাদ (৩৮) নিহত হন। গুরুতর আহত হন এইচএসসি পরীক্ষার্থী আরশাদ।

দুর্ঘটনার পর আরশাদকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

সোমবার রাত ১০টার দিকে আরশাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে রাতেই জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন মাহবুবুল বশর। তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল আরশাদ। ছেলেকে বিদায় দিয়ে তিনি জোহরের নামাজে যান। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফোনে জানতে পারেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে তাঁর ছেলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান তিনি। সেখানে ছেলের শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন আরশাদ কথা বলার মতো অবস্থায়ও ছিল না।

মাহবুবুল বশর বলেন, ছেলেকে বাঁচানোর আশায় তাঁর জমানো সব টাকা চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেছেন। কিন্তু ১০ লাখ টাকার বেশি খরচ করেও শেষ পর্যন্ত একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি তিনি।

আরশাদের দুই বড় বোন রুমি আকতার ও ঊর্মি আকতারের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁদের স্বামীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকেন। ফলে দুই মেয়ের বিয়ের পর আরশাদই বাবা-মায়ের সবচেয়ে কাছের সন্তান ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আরশাদের মা নুর বেগমও ছেলের মৃত্যুর পর বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন বলে স্বজনেরা জানান।

হাটহাজারী সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. আবু তালেব বলেন, আরশাদ তাঁদের কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোকাহত। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরশাদের চাচাতো ভাই ও ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ফারুক জানান, ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন মাহবুবুল বশর। অবসরকালীন ভাতা ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের অর্থও তিনি চিকিৎসায় খরচ করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রিয় সন্তানকে আর ফিরে পাননি।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com