ঢাকা, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৪:২৫ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

গাজীপুর সাফারি পার্কের চুরি হওয়া দুই লেমুরের সন্ধান ভারতে

প্রকাশিত : ০৪:২৫ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া রিংটেইল লেমুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটির সন্ধান মিলেছে ভারতের গুজরাটে। প্রাণী দুটি বর্তমানে ভারতের শিল্পপতি অনন্ত আম্বানির বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প ‘বনতারা’য় রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে পাচারের পর একাধিক ব্যক্তির হাত ঘুরে লেমুর দুটি ভারতে যায় এবং পরে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়।

২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে তিনটি রিংটেইল লেমুর চুরি হয়। তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, পার্কের নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহযোগিতায় জুয়েল নামের এক বন্য প্রাণী চোরাকারবারি প্রাণীগুলো সরিয়ে নেন। পরে তিনটির মধ্যে দুটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়।

সিআইডির তদন্ত এবং মামলার আসামিদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অনুযায়ী, চুরি করা লেমুরগুলো প্রথমে বাংলাদেশের একটি বাড়িতে রাখা হয়েছিল। এরপর প্রাণীগুলোর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামের দুই ব্যক্তি বাংলাদেশে এসে দেলোয়ার ও তপনের মাধ্যমে লেমুর বিক্রির অর্থ লেনদেন ও অন্যান্য বিষয় সমন্বয় করেন। এ সময় একটি প্রাপ্তবয়স্ক লেমুর ও একটি শাবক ১৭ লাখ টাকায় এবং অন্য শাবকটি ৩ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়।

পরে সীমান্ত অতিক্রম করে লেমুর দুটি কয়েকজনের হাত বদলের মাধ্যমে গুজরাটের জামনগরে পৌঁছায়। সেখান থেকে সেগুলো ‘বনতারা’ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বনতারায় থাকা লেমুর দুটির ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। ছবিতে থাকা প্রাণীগুলোর সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া লেমুরের মিল খুঁজে পান বাংলাদেশের তদন্তকারীরা।

তবে লেমুর দুটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শনাক্তকরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রাণী দুটির শরীরে কোনো মাইক্রোচিপ, স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর কিংবা সংরক্ষিত ডিএনএ প্রোফাইল নেই। এ কারণে দেশে থাকা একটি লেমুর শাবকের ডিএনএ পরীক্ষা করে ভারতে থাকা প্রাণী দুটির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতাও চেয়েছে বাংলাদেশ।

‘বনতারা’ রিলায়েন্স গোষ্ঠীর মালিকানাধীন একটি বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প। প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন অনন্ত আম্বানি।

রিংটেইল লেমুর মাদাগাস্কারের স্থানীয় প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এটিকে ‘গুরুতরভাবে বিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে লাল তালিকায় রেখেছে। প্রজাতিটি সাইটিসের পরিশিষ্ট-১-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিশেষ অনুমতি ছাড়া এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ।

সিআইডি জানিয়েছে, লেমুর চুরির ঘটনায় করা মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com