ঢাকা, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৭:২৭ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

নেপালে ভয়াবহ বন্যা: হাজারের বেশি মৃত্যু, জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি

প্রকাশিত : ০৭:২৭ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের বিভিন্ন এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো করেছে নেপাল। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, গত সপ্তাহের ভয়াবহ দুর্যোগে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দাবি করে বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে কাঠমান্ডু। এ ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

বাগমতী প্রদেশের কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা ভোতেকোশি নদীর বন্যায় অন্তত ১ হাজার ১২৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পাথর ও বরফ ধসের পর এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নেপাল। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে শাহের সফরের প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, এই দুর্যোগের জন্য নেপাল দায়ী নয়। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব সবচেয়ে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে। নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অত্যন্ত কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং পাহাড়ি দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খানাল বলেন, নেপাল তার কূটনৈতিক অবস্থানকে সহায়তা চাওয়ার জায়গা থেকে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বন্যার ক্ষতিপূরণ দান নয়, ন্যায়বিচার

শিশির খানালের ভাষ্য, রাসুয়ার এই দুর্যোগকে কেবল মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করে দান বা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শিল্পোন্নত বড় অর্থনীতিগুলোর বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে নেপালের মতো দেশ যে ক্ষতির মুখে পড়ছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া তাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, এটি দাতব্য সহায়তার বিষয় নয়; বরং আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

খানাল চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বিশ্বের বৃহৎ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নেপালের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায় রয়েছে।

তবে মোট নির্গমনের পরিমাণে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নির্গমনকারী হলেও দেশটির মাথাপিছু ও ঐতিহাসিক কার্বন নির্গমন উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কম। ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৪ সালের EDGAR হিসাব অনুযায়ী, মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশের মধ্যে রয়েছে।

ভারতের মাথাপিছু কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন প্রায় ৩ টন। চীনে এই পরিমাণ প্রায় ১১ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ টনের বেশি। ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জলবায়ু দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক নির্গমন, মাথাপিছু নির্গমন, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং আগে শিল্পায়নের সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর বাড়তি দায়িত্ব বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

‘হিমালয়ান সুনামি’ নেপালে

গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। এতে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজারো মানুষ।

নেপাল এই ভয়াবহ দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকেই বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।

প্রাথমিক মূল্যায়নে পাথর ও বরফের ধস, অস্থিতিশীল হিমবাহ এবং হিমালয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পপ্রবণ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে এমন দুর্যোগের ঘটনায় হিমালয়ের ভঙ্গুর পরিবেশে চীনের নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বেড়েছে।

পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫ বিলিয়ন ডলার

নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে গত সপ্তাহে রয়টার্সকে জানান, বন্যায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দেশটির ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

এদিকে জরুরি আর্থিক সহায়তা পেতে জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে নেপাল।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্থান টাইমস

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com