ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০২:৪৯ এএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

মহিষের মালিকানা নিয়ে বিরোধ, এবার ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পুলিশের

প্রকাশিত : ০২:৪৯ এএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬

মহিষের মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তিতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বিহার পুলিশ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিহারের গয়ায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রাণীটির ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। চুরি, সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভ্যস্ত পুলিশকে এবার মহিষের মালিকানা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) বিকাশ বৈভব গয়া (গ্রামীণ)-এর পুলিশ সুপার দিব্যাঞ্জলি জয়সওয়ালকে ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বিতর্কিত মহিষটি সুরজ যাদবের বাড়িতে রয়েছে। তিনি দাবি করছেন, মহিষটির প্রকৃত মালিক তিনিই।

আইজি বিকাশ বৈভব জানান, দুই পক্ষই মহিষটির মালিকানা দাবি করায় বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য মহিষটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তার মায়ের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

পুলিশ জানায়, মহিষটির মা এখনও জীবিত এবং অন্য এক গ্রামবাসীর কাছে রয়েছে। মা ও সন্তানের ডিএনএ মিলিয়ে বংশপরিচয় নিশ্চিত করা গেলে মালিকানা নিয়ে চলমান তদন্তে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।

ঘটনার শুরু প্রায় এক সপ্তাহ আগে। উত্তর গ্রামের বাসিন্দা সুরজ যাদব অত্রি থানায় অভিযোগ করেন, তার মহিষ চুরি হয়েছে। পরে তদন্তে পার্শ্ববর্তী নৌরঙ্গা গ্রামের প্রকাশ মাঞ্জির বাড়ি থেকে একটি মহিষ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর সেটি সুরজের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। থানায় গিয়ে প্রকাশ মাঞ্জি দাবি করেন, উদ্ধার করা মহিষটি তার। এরপর পুলিশ সুরজের বাড়ি থেকে মহিষটিকে আবার থানায় নিয়ে আসে এবং দুই দিন সেখানে রাখে। থানায় রাখা মহিষটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে নতুন করে তদন্তের পর পুলিশ মহিষটিকে আবার সুরজের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

এদিকে মহিষটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি বিষয়টি গড়িয়েছে আইনি জটিলতায়ও। প্রকাশ মাঞ্জি সুরজ যাদবের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বাথানি এলাকার ডিএসপি সুরেন্দ্র কুমার জানান, মহিষের মালিকানা নিয়ে বাদানুবাদের সময় সুরজ মাঞ্জিকে উদ্দেশ করে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি আইজি বিকাশ বৈভবের কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছায়। আরজেডির সাবেক বিধায়ক অজয় যাদব আইজির সঙ্গে দেখা করে ঘটনাটি তদন্তের অনুরোধ জানান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এটি মূলত একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে সাধারণ বিরোধ। অথচ এ ঘটনায় সুরজের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি আইনে মামলা হয়েছে। মামলা পরিচালনায় যে অর্থ ব্যয় হবে, তা দিয়ে নতুন একটি মহিষ কেনা সম্ভব—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

বিহারে পশুকে ঘিরে পুলিশের কাছে অস্বাভাবিক অভিযোগ আসার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় দুই বছর আগে পূর্ণিয়ায় এক ব্যক্তি একটি ষাঁড়কে গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে থানায় হাজির হয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ষাঁড়টি তাকে তাড়া করে শিং দিয়ে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পুলিশ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ডেকে সমঝোতার উদ্যোগ নিলে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।

একই জেলায় আরেক ঘটনায় একটি মা ছাগলকে ধরে ঘরে আটকে রাখার কারণে তার তিনটি ছাগলছানার মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগও তদন্ত করেছিল পুলিশ।

তবে গয়ার বর্তমান ঘটনাটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে মহিষের ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্তে। তদন্তকারীদের আশা, পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে প্রাণীটির বংশপরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে মালিকানা নিয়ে চলমান বিরোধেরও নিষ্পত্তি হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com