নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিখোঁজ ৪০০-এর বেশি পর্যটক
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পরও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পাহাড়ি শহর ও উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা। এ ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল বলেন, ‘কাদা আর পানির বিশাল স্রোত আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। আমি আমার জীবনসঙ্গীর হাত ধরে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু চোখের সামনেই কাদার স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।’
প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে করে কেশবকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাদার নিচে চাপা পড়ে তার জীবনসঙ্গী আর ফিরে আসেননি।
কেশবের মতো আরও অনেক মানুষ ভয়াবহ সেই দুর্যোগের প্রত্যক্ষদর্শী। কেউ চোখের সামনে ঘরবাড়ি ধসে পড়তে দেখেছেন, আবার কেউ প্রাণ বাঁচাতে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে ছিলেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কাজ করার সময় তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেটি তার চোখের সামনেই ধসে পড়ে। চারদিকে তখন কাদা, পানি ও ধ্বংসস্তূপের স্রোত। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। নদীতে মাটি ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিখোঁজ ৪০০-এর বেশি পর্যটকের মধ্যে প্রায় ৩৪০ জন বিদেশি। ট্রেকিং ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় ওই এলাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত পর্যন্ত ১৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে মানুষ ভেসে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যাচাই করা ভিডিওগুলোতে দুর্যোগের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।
নেপাল ও চীনের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপালে পানির তোড়ে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিব্বতের গিরং কাউন্টির একটি সীমান্ত স্থলবন্দরেও ভূমিধসের পর বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগের পর নেপালের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ওই সময় রেকর্ড হওয়া কম্পনটি প্রকৃত ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে পড়া এবং সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ভূকম্পনসদৃশ শক্তি তৈরি হয়েছিল।
নিখোঁজদের অনেকেই তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী। হিন্দু ও বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর কাছে দুর্গম উচ্চভূমিতে অবস্থিত এই এলাকা পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কৈলাস পর্বত ভগবান শিবের আবাসস্থল।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ২৪ জন কানাডার নাগরিক।
সূত্র: রয়টার্স
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com