বসনিয়া যুদ্ধের যুদ্ধাপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সার্বিয়ান জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ।
বসনিয়া যুদ্ধের সময় অন্তত ৮ হাজার বসনিয়ান মুসলিম হত্যার অন্যতম প্রধান হোতা এবং ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত সাবেক সার্বিয়ান জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে জাতিসংঘের হেফাজতে থাকা একটি বন্দিশিবিরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার আইনজীবী দ্রাগান ইভেতিচ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার জন্য ম্লাদিচকে দায়ী করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংস ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই হত্যাকাণ্ডে অন্তত ৮ হাজার বসনিয়ান মুসলিমকে হত্যা করা হয়। নিহতদের অনেককে গণকবরে দাফন করা হয়েছিল। হত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে পরবর্তীতে বহু মরদেহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
বসনিয়া যুদ্ধের প্রায় তিন বছরজুড়ে ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী সার্ব বাহিনী রাজধানী সারায়েভো অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই সময় নির্বিচার গোলাবর্ষণ ও ট্যাংক হামলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত হন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিওয়াই) মতে, বসনিয়ান মুসলিম ও ক্রোয়াটদের জাতিগতভাবে নির্মূল করে একটি ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
এই পরিকল্পনায় ম্লাদিচের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তৎকালীন সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ এবং বসনিয়ান সার্ব রাজনৈতিক নেতা রাদোভান কারাদজিচ। যুদ্ধ শেষে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই গ্রেপ্তার হন ম্লাদিচ।
মিলোসেভিচ ২০০৬ সালে বন্দিদশায় মারা যান। অন্যদিকে কারাদজিচ ২০১৬ সালে গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত হন।
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে তিনি আদালতের কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারকদের উদ্দেশে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেও চিৎকার করেন তিনি।
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় স্বামী ও সন্তান হারানো মুনিরা সুবাসিচ ম্লাদিচকে যুদ্ধের নৃশংসতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ম্লাদিচকে জার্মান নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই ম্লাদিচ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে আদালতে বেশ অসুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে একাধিকবার মুক্তির আবেদন করলেও ২০২১ সালে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
চলতি বছরের আগস্টে জাতিসংঘের চিকিৎসকেরা ম্লাদিচের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়ে তার মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এরপরও তার মুক্তির আবেদন নাকচ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বন্দিদশাতেই তার মৃত্যু হলো।
সূত্র: রয়টার্স
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com