সম্পর্কের কথা জানার পর অর্থ ও চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার দাবি; হামলা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি ওবায়দুরের
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) সম্পর্কে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলার পর তাকে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। তাঁর দাবি, গাজী নজরুল তাঁকে বলেছিলেন, পাঁচ বছর তাঁর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন ওবায়দুর। নিজের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর ওপর হামলার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ওবায়দুর রহমান বলেন, তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুলের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন। তরুণীটি ওবায়দুরের আত্মীয়।
ওবায়দুরের দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করেন। এরপর তাঁকে প্রথমে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়।
তবে অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করে তরুণীর নিরাপত্তা এবং অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি গাড়িচালকের কাজ নেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর।
তিনি জানান, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই গাজী নজরুলের সঙ্গে থাকার সময় তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এর আগে ১৮ জুন প্রথম ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলে দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর আরও বলেন, ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন গাজী নজরুলও সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি তাঁর।
এ সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাঁকে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলেও দাবি করেন ওবায়দুর। তবে তিনি সেই অর্থ নেননি বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর দাবি করেন, ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফিশপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুরের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়।
ওবায়দুর অভিযোগ করেন, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তাঁর ওপর হামলা চালান এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
তিনি জানান, এ ঘটনার পর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত থেকে জামিন পান বলে দাবি করেন তিনি।
এর মধ্যে ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তাঁর বোন এবং ওই তরুণীর মা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।
ওবায়দুর আরও অভিযোগ করেন, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মা ও পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com