ফ্রিডারে ৬ লাখ ব্যবহারকারী, প্রতিদিন নিবন্ধন ১ লাখ; সার্ভার সামলাতে হিমশিম
রংপুর থেকে যাত্রা শুরু করা দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ফ্রিডার’ নিয়ে ব্যবহারকারীদের আগ্রহ বেড়েছে ব্যাপকভাবে। বাংলাভিশনে প্রতিবেদন প্রচারের পর মাত্র এক সপ্তাহে প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী প্রায় ৬ লাখে পৌঁছেছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ নতুন ব্যবহারকারী নিবন্ধন করছেন। তবে হঠাৎ ব্যবহারকারী বেড়ে যাওয়ায় সার্ভারের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
‘স্বাধীনতা উপভোগ করুন ফ্রিডারের মধ্যে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব একটি ডিজিটাল পরিসর তৈরি করা, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের গল্প, সংবাদ, মতামত ও সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন।
ফ্রিডারের উদ্যোক্তা আখতারুজ্জামান জানান, শুরুতে এক বছরে ১ লাখ ব্যবহারকারী পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বাংলাভিশনে প্রতিবেদন প্রচারের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ নতুন ব্যবহারকারী নিবন্ধন করছেন। এতে একদিকে প্ল্যাটফর্মটির প্রতি মানুষের আগ্রহের প্রমাণ মিলেছে, অন্যদিকে সার্ভারের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও নতুন অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক নতুন ব্যবহারকারীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ফ্রিডারের হেড অব সাপোর্ট রেজাউল করিম বলেন, এটি শুধু রংপুরের একটি উদ্যোগ নয়, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্যও সম্ভাবনাময় একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত প্রযুক্তি উন্নয়ন, মানসম্মত কনটেন্ট ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, এত বড় চ্যালেঞ্জ শুধু ব্যক্তি উদ্যোগে মোকাবিলা করা কঠিন। এ জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।
ফ্রিডারের মার্কেটিং প্রধান বাদশা আলম জানান, বাংলাভিশনে প্রতিবেদন প্রচারের পর মাঠপর্যায়ের মার্কেটিং কার্যক্রম অনেকটাই স্থগিত রয়েছে। কারণ, নতুন ব্যবহারকারীর চাপ সামলাতে সার্ভারের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কর্মীদের নিয়মিত বেতন দিতে হওয়ায় আর্থিক চাপও বাড়ছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, ফ্রিডারে ১৫০ টাকায় প্রোফাইল এবং ৩০০ টাকায় পেজ ভেরিফিকেশনের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি কম খরচে পোস্ট প্রমোট ও বিজ্ঞাপনের সুযোগ এবং ১ হাজার ফলোয়ার পূর্ণ হলে মনিটাইজেশনের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
তবে ব্যবহারকারীর দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে এই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, দ্রুত বিনিয়োগ না এলে সার্ভারের চাপ সামলে ব্যবহারকারীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে টেকসই করতে শুধু ব্যবহারকারী বাড়ানো যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি তথ্যনিরাপত্তা, সার্ভার সক্ষমতা, কনটেন্টের মান, ব্যবহারকারীর আস্থা এবং নিয়মিত প্রযুক্তি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
রংপুর থেকে শুরু হওয়া ফ্রিডার এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনারও পরীক্ষা। ব্যবহারকারীদের ব্যাপক সাড়া এর সম্ভাবনা তুলে ধরলেও সেই আগ্রহ ধরে রাখতে দ্রুত বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com