ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৯:৩৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুন: প্রাণীদের উদ্ধারে কর্মীদের তৎপরতা, ১০ পর্যটকের মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

প্রকাশিত : ০৯:৩৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পোষা কুকুরের সঙ্গে মালিক তানভীর সুলতান মিয়া।

ডিজিটাল রিপোর্ট :

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগুন লাগার পর রিসোর্টের কয়েকজন কর্মী মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান বলে দাবি করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তবে কয়েকজন পর্যটক আগুনের মধ্যে কক্ষে আটকা পড়েছিলেন বলে তাঁর ভাষ্য।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রিসোর্টের কর্মীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রান্নাঘরে গ্যাসের চুলায় চা বসিয়ে এক কর্মী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে বিকট শব্দ হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের সময় কী ঘটেছিল

রিসোর্টের পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের মতো শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে তিনি রিসোর্টটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। তাঁর দাবি, এ সময় চার-পাঁচজন কর্মী মালিকের পোষা কুকুর ও বিড়াল নিয়ে ছোটাছুটি করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর রিসোর্টের অধিকাংশ কর্মী এবং কয়েকজন অতিথি বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে কয়েকজন পর্যটক কক্ষের ভেতরে আটকা পড়েন। দ্বিতীয় তলায় রাখা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়ালকে কর্মীরা বাইরে নিয়ে আসেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে উখিয়া থানায় মামলা করেছে পুলিশ। তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদও মামলার আসামি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রিসোর্টের রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অপর এক আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গ্রেপ্তারের আগে সাংবাদিকদের কাছে সুমন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে ১৯ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত বাইরে চলে যান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের নয়টি কক্ষের মধ্যে ছয়টিতে ২১ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার পর থেকে মালিক তানভীর সুলতান মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদের অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুনে উখিয়ার ইনানী মৌজায় মেরিন ড্রাইভের পাশে প্রায় ১০ শতক জমি কেনেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা টিপু সুলতান মিয়ার ছেলে তানভীর সুলতান মিয়া। পরে ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে রিসোর্টটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

রিসোর্টটির পাশাপাশি তানভীরের ‘সার্ফনেট’ নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রিসোর্টে বিভিন্ন প্রজাতির পোষা কুকুর ও বিড়াল রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ইতালীয় প্রজাতির কেনি ও জার্মান প্রজাতির কিয়ানা নামের দুটি কুকুর এবং পার্সিয়ানসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিড়াল ছিল। প্রাণীগুলো পোষার পাশাপাশি কেনাবেচার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, তিনতলা কাঠের ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনও জানান, রিসোর্টটির বৈধ অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও মালিকপক্ষ কার্যক্রম বন্ধ করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, মামলার প্রধান আসামি তানভীরসহ অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com