ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৮:০৪ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

বারিধারায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের মামলায় ১৭ বছরের কিশোরের জামিন

প্রকাশিত : ০৮:০৪ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল রিপোর্ট :

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীর নিহতের ঘটনায় করা মামলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শেষে শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির এ আদেশ দেন। আদালতের এক কর্মচারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৪ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে দুই দফায় ওই কিশোরের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন আদালত।

ফুটপাতে বসে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় শ্রমিকের মৃত্যু

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বারিধারার ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীর। এ সময় একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে তাঁকে আঘাত করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়রা গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনাদাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায় দুর্ঘটনার ভিডিও

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে এক কিশোরকে গাড়ির চালকের আসন থেকে বের হতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম এ ঘটনায় মামলা করেন। শুরুতে মামলায় ওই কিশোরের নাম ছিল না। পরে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে।

পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরেফিন ইসলাম কিশোরকে আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত তখন তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

৯ লাখ টাকার আপসের দাবি, পুলিশের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য

এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন জানিয়েছিলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের দাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য ১ লাখ টাকা এবং পরিবারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মেটাতে আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। আত্মীয়স্বজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অর্থ গ্রহণের পর আপসনামা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আদালতে দাখিল করা পুলিশের ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখেছেন, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কিশোর গাড়ির ডান পাশের চালকের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে।

পুলিশের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে আসামিপক্ষের আপসের দাবির পাশাপাশি তদন্তে পাওয়া তথ্যও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে আদালতের জামিন আদেশকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া হিসেবে দেখা যাবে না। মামলার চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে বিচারিক প্রক্রিয়া ও প্রমাণের ওপর।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com