পঞ্চগড়ে নাবালিকা মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভনে এক নাবালিকা মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. আখিনুর নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে আখিনুরকে প্রধান আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আখিনুর চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। আখিনুর একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল আখিনুর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ মে রাতে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে।
পরে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারে পরিবার। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে আখিনুরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানায় কিশোরী।
এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনা জানার পর স্থানীয়ভাবে ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করা হয় এবং প্রধান আসামি আখিনুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলছে।
মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা বাক্প্রতিবন্ধী। এ সুযোগে আখিনুর ঘটনাটি ঘটিয়েছে। মামলা করার পর আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
আখিনুরের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার চাচা। তার দাবি, আখিনুরের জন্ম ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে তার বয়স ১৪ বছরের কিছু বেশি হওয়ার কথা। অথচ মামলার এজাহারে তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদরাসার সুপার হাবিবুর জানান, আখিনুর তাদের প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদরাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন সে মাদরাসায় আসেনি। ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পরে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com