রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধের খবর, বাতিল শত শত ফ্লাইট
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এর প্রভাবে সৌদি আরবের বিভিন্ন রুটে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এয়ার ডেটা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরে পরিদর্শন ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চলায় দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিসিএএ) সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে।
বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের উপাত্তের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সৌদি আরবের নির্ধারিত ১ হাজার ৪৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪৮৬টি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, দিনের মোট নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৪৬ শতাংশ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রিয়াদ বিমানবন্দরে রোববারের প্রায় সব ফ্লাইট এবং সোমবারের প্রায় ৭৮ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এবং এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। ফিলিপাইন এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ফ্লাইদুবাই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইনসও আটলান্টা-রিয়াদ রুট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা এবং হতাহতের বিষয়ে গুরুতর কিছু দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবরের একটি হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ আরেকটি প্রক্ষেপক আঘাত হানলে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা, হামলার ধরন এবং উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য বিকল্প ভ্রমণপথ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত অথবা জর্ডান হয়ে সড়কপথে সৌদি আরব ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) আঞ্চলিক আকাশসীমায় বিমান চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর সময়সীমা এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটসূচি সম্পর্কে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com