ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ১২:০৯ এএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ, আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ১২:০৯ এএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল রিপোর্ট :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গায়ক আবু জাহিদ ওরফে অন্তুর বিরুদ্ধে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও মডেল জান্নাতুন তাজরি অরার করা শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তদন্ত শেষে মামলাটি থেকে অন্তুকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আদালতের হাতে রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আবু জাহিদ অন্তু পেশায় গায়ক, মডেল ও গিটার প্রশিক্ষক। ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার শেখার সূত্রে তাঁর সঙ্গে জান্নাতুন তাজরি অরার পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও একপর্যায়ে বিচ্ছেদ ঘটে।

এজাহারে অরার অভিযোগ ছিল, গত ২ মে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাঁকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় ৩১ মে তিনি গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) কে. এম. রাশিদুর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরা অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। এরপর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব পেয়ে সেখানে যান অরা।

তদন্তে উঠে আসা বিবরণ অনুযায়ী, ২ মে সকালে অরা সেখানে গিয়ে অন্তুকে পাননি। পরে বিকেলে তাঁদের দেখা হয় এবং তাঁরা বাসার অফিসকক্ষে বসেন। একপর্যায়ে অন্তু মোবাইল ফোন চার্জে রেখে নিচে গেলে তাঁর ফোনে আসা একটি কল রিসিভ করেন অরা। এ সময় নিজেকে অন্তুর স্ত্রী বলে পরিচয় দেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে অন্তু তাঁর কাছে এমন পরিচয় দেওয়ার কারণ জানতে চান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় অরা অপমানিত বোধ করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পরই অন্তুর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার অভিযোগ যাচাইয়ে বাদী ও বিবাদীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়। তবে অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অরার শারীরিক পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকের প্রতিবেদনে আঘাত বা নিপীড়নের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পুলিশের দাবি, অন্তুকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং বিয়ের জন্য চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছিল। তবে এসব বিষয় তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উঠে আসা পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ; মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবেন।

গত ৩১ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে অন্তুকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭ ধারায় জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিলের অনুমতি চাওয়া হয়।

এদিকে, একটি গণমাধ্যমকে আবু জাহিদ অন্তু বলেন, মামলার কারণে সামাজিকভাবে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে এবং ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ক্ষতির দায় কে নেবে।

তদন্ত কর্মকর্তা কে. এম. রাশিদুর রহমান বলেন, তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের।

বিনোদন বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com