মো.গোলাম কবির : ছবি
দেশের সেবায় দীর্ঘ ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। চাকরিজীবন শেষে অবসরে গিয়ে নিয়মিত পেতেন অবসর ভাতা। কিন্তু পরিচয়পত্রে নামের সামান্য অমিলের কারণে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সেই ভাতা। ছয় বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমস্যার সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সাবেক সেনাসদস্য মো. গোলাম কবির।
গোলাম কবিরের বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার চিত্রা গ্রামে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ১৮ বছর বয়সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। তাঁর প্রথম কর্মস্থল ছিল ৩৯-ই বেঙ্গল। চাকরির শুরুতে মাসিক বেতন পেতেন ১ হাজার ৬১০ টাকা এবং ভাতা ছিল ৯৪০ টাকা। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে সৈনিক পদে অবসর গ্রহণ করেন।
অবসরের পর নিয়মিত ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা করে অবসর ভাতা পেতেন গোলাম কবির। তবে চাকরিতে যোগদানের সময় নথিভুক্ত নামের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ব্যবহৃত পরিচয়পত্রের নামের অমিল দেখা দেওয়ায় ২০২০ সাল থেকে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান তিনি। বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় নাম সংশোধনের প্রক্রিয়াতেও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
গোলাম কবির জানান, ভাতা পুনরায় চালুর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধনও করেছেন। কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, তিনি জীবিত আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, অবসরের সময় চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে ১৭ জন সদস্য অবসর নিয়েছিলেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাজশাহী সেনানিবাসে সংরক্ষিত থাকায় প্রশাসনিক প্রয়োজনে তাঁকে সেখানে যোগাযোগ করতে হয়। বারবার সমস্যার কথা জানিয়েও কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয় তাঁর সংকট আরও বাড়িয়েছে। গোলাম কবিরের মাথায় ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এ জন্য মানুষের কাছ থেকে ধার করে টাকা জোগাড় করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। চিকিৎসার খরচ ও অবসর ভাতা বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
গোলাম কবিরের স্ত্রী মুকুল বেগম বলেন, দুই ছেলে থাকলেও তাঁরা বেকার। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিচয়পত্র সংশোধন করতে গিয়ে তাঁদের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সরকারের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে অবসর ভাতা চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মুকুল বেগম।
গোলাম কবিরের ভাতিজা মনসুর আহমেদ লিখন বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরির সময় তাঁর চাচা নিয়মিত বেতন-ভাতা, রেশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেতেন। কিন্তু নামের ভুলের কারণে এখন অবসর ভাতা বন্ধ থাকায় তাঁর জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে প্রাপ্য ভাতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রব্বী জানান, গোলাম কবির প্রত্যয়নপত্রের জন্য তাঁর কাছে আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com