ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০২:১৩ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস

প্রকাশিত : ০২:১৩ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন করছে সরকার।

নিউজ ডেস্ক :

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগে গতি এসেছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে ৩২টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ছাড়া ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতার চাপ কমবে।

৩২টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

পেট্রোবাংলার হিসাবে, ইতোমধ্যে খনন সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১১টি এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাতটি কূপ রয়েছে।

এসজিএফএলের কূপগুলো হলো—বিয়ানীবাজার-১ ও ২, কৈলাশটিলা-১, ২, ৭ ও ৮, রশিদপুর-২, ৩, ৫ ও ১১ এবং সিলেট-৭, ১০, ১০ এক্স ও ১১।

বাপেক্সের কূপগুলো হলো—টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ ও রূপগঞ্জ-১।

বিজিএফসিএলের কূপগুলো হলো—তিতাস-১৪, ১৬, ২৪ ও ২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ এবং কামতা-২।

পেট্রোবাংলা জানায়, এসব কূপ থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাইপলাইন সংকটে পুরো গ্যাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না

পেট্রোবাংলার রিজার্ভার অ্যান্ড ডেটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পুরো গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাচ্ছে না। সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলছে। এগুলো হলো—রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাবে, আগামী জানুয়ারির মধ্যে এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজ শেষ হলে কূপগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্টের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে কতটা গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

পেট্রোবাংলা আরও জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯টি প্রকল্পের কাজ চলছে। পাশাপাশি আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ঘাটতি

দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে ৯০০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সরবরাহ নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ার ফলে দৈনিক প্রায় ৫৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন গ্যাস আবিষ্কার বা উৎপাদনের পাশাপাশি তা দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে তা যেন অব্যবহৃত না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর

দেশের স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় স্থানে নতুন কূপ খননের জন্য জরিপ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বাসসকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতায় উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, চলমান সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়নও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্র: বাসস

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com