ঢাকা, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৯:৪৭ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

কুড়িগ্রামে হাতের ভেতরে কাঁচের টুকরা রেখেই সেলাই, চিকিৎসক বললেন ‘সরি’

প্রকাশিত : ০৯:৪৭ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া

ডিজিটাল রিপোর্ট :

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাঁচের আঘাতে আহত এক দিনমজুরের হাতের মাংসপেশির ভেতরে কাঁচের টুকরা রেখেই চিকিৎসা শেষ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। এক মাসের বেশি সময় ব্যথা ও যন্ত্রণা ভোগের পর অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে তাঁর হাত থেকে দুটি কাঁচের টুকরা বের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি একজন ভূমিহীন দিনমজুর। অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক মাসের বেশি সময় আগে বাড়িতে বিদ্যুতের সুইচে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন সাইদার মিয়া। এ সময় পড়ে গিয়ে ভাঙা কাঁচে তাঁর বাম হাত গভীরভাবে কেটে যায়। এতে হাতের মাংসপেশির ভেতরে কাঁচের টুকরা ঢুকে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সাইদার মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর শয্যা খালি নেই জানিয়ে তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর হাতের মাংসপেশির ভেতরে কাঁচের টুকরা রয়ে গিয়েছিল। সেগুলো বের করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এরপর এক মাসের বেশি সময় ধরে হাতের তীব্র ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটান তিনি। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে এক্স-রে করালে হাতের মাংসপেশির ভেতরে দুটি কাঁচের টুকরা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে কাঁচের টুকরা দুটি বের করা হয়।

সাইদার মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ঘরের ভেতরে থাকা কাঁচে হাতে আঘাত পাই। স্থানীয় লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কোনোরকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে কাঁচ রেখেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সুস্থ না হওয়ায় এক মাসের বেশি সময় পর এক্স-রে করালে দুটি কাঁচের টুকরা দেখা যায়। এরপর অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করা হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, নাকি মানুষকে মেরে ফেলা হয়? কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।’

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম। তিনি বলেন, সাইদার মিয়া অত্যন্ত গরিব ও অসহায় মানুষ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাঁচের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় চিকিৎসকেরা দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালন করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করলে তাঁকে এক মাসের বেশি সময় ধরে এমন যন্ত্রণা ভোগ করতে হতো না।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য সরি। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com