নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান থামিয়ে অসুস্থ দুই নারীকে চিকিৎসা দিলেন নববধূ চিকিৎসক
নিজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। চারপাশে উৎসবের আমেজ। এর মধ্যেই ক্যাটারিং দলের দুই নারী কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি দেখে বিয়ের আয়োজন সাময়িক থামিয়ে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন নববধূ চিকিৎসক ডা. শিরিন সুবায়র। পরে সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ভারতের কেরালার কান্নুর জেলার পানুরে ডা. শিরিন সুবায়র ও চিকিৎসক রিজাজের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ক্যাটারিং দলের এক নারীর নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। অন্য একজন জানান, তাঁর মাথা ঘুরছে এবং দুর্বল লাগছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই জানতেন শিরিন একজন চিকিৎসক। তাই অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। পরিস্থিতি দেখে শিরিন দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন।
শুক্রবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে শিরিন বলেন, ‘সবাই জানতেন আমি একজন চিকিৎসক। তাই একজন এসে আমাকে পরিস্থিতি দেখতে বলেন। সেখানে গিয়ে যা করার দরকার ছিল, আমি সেটাই করেছি।’
শিরিন বর্তমানে ওট্টাপালমের ভাল্লুভানাড হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাবিদ্যায় প্রথম বর্ষের এমডি শিক্ষার্থী। অসুস্থ দুই নারীকে প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি রেখেই তিনি ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া নারীকে সামনের দিকে ঝুঁকে বসান শিরিন। একই সঙ্গে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে এবং নাকের নরম অংশ ১০ থেকে ১৫ মিনিট শক্ত করে চেপে রাখার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতায় ভোগা নারীকে পা উঁচু করে শুইয়ে দেওয়া হয়।
শিরিন বলেন, ‘এগুলো প্রাথমিক পদক্ষেপ। প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়, এরপর প্রয়োজন হলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয়।’
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
অনলাইনে ব্যাপক প্রশংসা পেলেও শিরিন ঘটনাটিকে বিশেষ কোনো বিষয় হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘এটা মোটেও বড় কোনো ব্যাপার নয়। রাস্তায় কাউকে পড়ে যেতে বা জ্ঞান হারাতে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা প্রতিক্রিয়া জানাই। আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হলে সেখানেই তা করি, এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল, সেটিও তিনি বুঝতে পারেননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতদের কাছ থেকে ভিডিওটি পান বলে জানান শিরিন।
প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব না হলে প্রাথমিক চিকিৎসা আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান এই চিকিৎসক।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেন শিরিন। তাঁর মতে, জরুরি অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেরি হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
শিরিনের স্বামী ডা. রিজাজও চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি অন্ধ্র প্রদেশে অর্থোপেডিকসে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করছেন। রিজাজ বলেন, ‘জরুরি চিকিৎসা বিভাগের বিশেষজ্ঞদের এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রবণতা থাকে।’
নবদম্পতির মতে, ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে—প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান থাকলে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছ থেকে দূরে থাকলেও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com