ঢাকা, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৬:১৮ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

নুসরাত হত্যা মামলার উদাহরণ টেনে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ অভিযোগ জিয়াউল আহসানের

প্রকাশিত : ০৬:১৮ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান

নিউজ ডেস্ক :

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারাধীন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান নিজেও ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার হচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে মামলার কার্যক্রম চলাকালে এ অভিযোগ করেন তিনি। এদিন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে এক পুলিশ কনস্টেবল জবানবন্দি দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালের সামনে গণমাধ্যমে বিচারাধীন মামলার তথ্য প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও আসামিপক্ষের জেরা বা সংশ্লিষ্ট বক্তব্য একইভাবে প্রকাশ করা হয় না।

এরপর কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসান কথা বলার অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি নুসরাত হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে নিজের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

জিয়াউল আহসান বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় ১০ আসামিকে খালাস দেওয়ার পর আইনজীবী শিশির মনির ও তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যে অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়ালের প্রসঙ্গ এসেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের মামলার প্রসঙ্গে জিয়াউল আহসান বলেন, গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমের উপস্থাপনায় তাকে এমনভাবে দেখানো হচ্ছে, যেন তিনিই সব অপরাধের জন্য দায়ী। তার ভাষায়, ‘গ্রেপ্তারের পর মনে হয় আমিই একমাত্র অপরাধী, এ দেশে আর কেউই নেই।’

হাজতখানায় কেক কাটার একটি ঘটনা নিয়েও গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ করেন জিয়াউল আহসান। তিনি দাবি করেন, ওই দিন তিনি হাজতখানায় ছিলেন না এবং কে কেক কেটেছেন, সেটিও তার জানা নেই।

এ কারণে বিচারাধীন বিষয়ে অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধে ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জবাবে ট্রাইব্যুনাল উপস্থিত প্রসিকিউটরদের বিষয়টি চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বিচার শেষ হওয়ার আগে তাকে খুনি বা ধর্ষক হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিচার শুরুর আগেই যদি কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তারা কারও বক্তব্য বা নাম বিকৃত করেন না। পাশাপাশি আসামিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেন খারাপ আচরণ না করেন, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় মিজানুল ইসলাম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ডিফেন্স সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন সাক্ষীকে গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে—এর চেয়ে নির্যাতিত হওয়ার আর কী হতে পারে।

জিয়াউল আহসানের আরেক আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে তারা সাধারণত গণমাধ্যমে কথা বলেন না এবং তারা বিষয়টি চানও না।

তবে এর জবাবে প্রসিকিউশন থেকে বলা হয়, জিয়াউল আহসান নিজে গণমাধ্যমে কথা না বললেও তার আইনজীবী নাজনীন নাহার এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

আইন-আদালত বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com