ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া তিনজনের একজন তুহিন এবং তাকে মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরও দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পর তুহিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করা ১৯ বছর বয়সী মো. সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শনিবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা একটি আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তুহিনের মা শিরিনা আক্তারের ভাষ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুহিন একটি ব্যাগে করে ফোনটি বাড়িতে এনে তার ছোট ভাইকে লুকিয়ে রাখতে বলেছিল। পরে ফোনটি তুহিনের বিছানার তোশকের নিচে রাখা হয়।
শিরিনা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ফোন উদ্ধার হওয়া এবং তুহিন ফোনটি বাড়িতে আনার বিষয়টি তার সন্দেহ তৈরি করেছে। ছেলে অপরাধী হলে তারও বিচার চান বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ১৫ বছর বয়সী কিশোরটি অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল ফোন যন্ত্রাংশের প্রতিষ্ঠানে ২ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ করছিল। মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে সে সেখানে কাজ শুরু করে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবার সঙ্গে ওই কিশোরের কথাও হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৬ বছর বয়সী অপর কিশোরের সঙ্গেও তুহিনের পরিচয় ছিল। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মোটরসাইকেল চালানোর সূত্রে কিশোরদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয় এবং তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিয়াম আফজাল খান টেকনিক্যাল অ্যান্ড কমার্স কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অপ্রতিমকে হত্যার পর তুহিন সিয়ামের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় একটি কথোপকথন পুলিশের নজরে আসে বলে তারা জানান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ওই কথোপকথনে সিয়ামকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হলে তিনি ‘আমি হত্যা করিনি, হত্যা করেছে আমার বন্ধুরা’ বলে উত্তর দেন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানার পরও তা গোপন রাখার অভিযোগে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুহিন ও সিয়ামসহ কয়েকজনের মধ্যে মোটরসাইকেল চালানো ও বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে চলাফেরার সূত্রে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। অপ্রতিমের সঙ্গেও তুহিনের কয়েক মাস ধরে যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে তাদের একসঙ্গে চলাফেরার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
তবে এসব সম্পর্ক কীভাবে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো তদন্তাধীন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com