লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক সবুজ আলী ও মেহেদী হাসান।
পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক মো. সবুজ আলী (২২) ও মেহেদী হাসান (২৩)। তাদের অবস্থান শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের ইউজে২২২ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
দেশে ফেরা সবুজ আলী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে। মেহেদী হাসান একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে নেওয়া ও কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে যান সবুজ ও মেহেদী। সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে তাদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাদের আটক করে। পরে তাদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন তাদের বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কাইয়ুম পেশায় সিএনজিচালক। স্বজনদের দাবি, দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে একপর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।
মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও স্বজনেরা তার খোঁজ পাননি।
এ পরিস্থিতিতে প্রায় দুই মাস আগে সবুজের বড় ভাই মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন বলে জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ বলেন, আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। প্রতিমন্ত্রী তার কথা শুনে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসনের আওতায় তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে মোট ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com