সংগৃহীত
দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত রয়েছে এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়। সরকার সেই চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, ঝড়-বৃষ্টি, গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়া, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিতে পারে। তবে এসব ঘটনাকে লোডশেডিং হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না, কারণ লোডশেডিং মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে ঘটে।
সংসদে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে আলোচনার সময় কয়েকজন সংসদ সদস্য গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ তুললে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও কারিগরি সমস্যার কারণে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট সক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার আরও ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে দেশের শতভাগ জনগণকে বিদ্যুতের আওতায় আনার সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন।
দীর্ঘমেয়াদি দাবদাহের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। তবে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি আরও জানান, খুলনা অঞ্চলের কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু নেই। ভোলা থেকে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ওই কেন্দ্রগুলো চালু করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার বিদ্যুতায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ব্যয় বেশি হলেও ধাপে ধাপে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সমাধানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com