প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, শেখ হাসিনা এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কাছে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। দেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো দেশের চাপ বা প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সুন্দর দেশ গঠনের চেষ্টা করছে সরকার। এ সময়ে বিরোধী দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
ছোটখাটো বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হলেও সেগুলোকে বড় করে তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংসদে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছেন। তার মধ্যে আমি পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি দেখতে পাই।’
জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, তেল-গ্যাস সংকটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলটি সঠিক রাজনৈতিক পথ বেছে নেয়নি। সরকার যখন ভারতবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানে রয়েছে, তখন সরকারের সহযোগিতায় না এসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
র্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে খুন-গুমের যে অভিযোগ ও কলঙ্ক রয়েছে, তার দায় বিএনপি সরকার বহন করতে পারে না। শেখ হাসিনা র্যাবকে খুন-গুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এ কারণে দেশজুড়ে র্যাব বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, সেই প্রেক্ষাপটে সরকার সংসদে র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে নতুন বাহিনী গঠন করেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সব নেতাকর্মীকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিলে বা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রার্থী বা পক্ষকে সমর্থনের সুযোগ নেই। নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
এ সময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এস এম সমেনুজ্জামান সমেন উপস্থিত ছিলেন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com