ঢাকা, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৭:৩০ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত : ০৭:৩০ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ।

নিউজ ডেস্ক :

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কার্যক্রমে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও নির্ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন হলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়েছে, রপ্তানির গতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। একই সময়ে আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কারেও দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আর দেরি করার সুযোগ নেই।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় থমকে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে খেলাপি ঋণের হার ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হচ্ছে, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার। রাজস্ব ঘাটতিও ২০২৫ অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

বিশ্বব্যাংকের মতে, সামাজিক কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি আরও কার্যকর করা গেলে দারিদ্র্য কমানোর প্রভাব বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি নিয়েও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে ২০২৬ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার কারণে ২০২৭ সালে তা কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে।

বিশ্বব্যাংক দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দক্ষতা, অবকাঠামো ও সহায়ক কর্মপরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে এআই শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানির বৈচিত্র্য এবং জনসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন করার পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com