ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের তলদেশে জমে থাকা কাদা ও বর্জ্য অপসারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয় করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রায় এক বছর ধরে চলবে লেকের পুনঃখনন বা ড্রেজিং কার্যক্রম। এরপর পানি শোধন, পাড় ও হাঁটার পথ সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধনসহ পুরো এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ধানমন্ডি লেককে আধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে ‘নজরুল সরোবর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্র সরোবরের আদলে এখানে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে ডিএসসিসি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন ও সামগ্রিক উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, ৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও গড়ে ৫৬ মিটার প্রশস্ত ধানমন্ডি লেকে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার স্লাজ বা কাদা-বর্জ্য জমেছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে দুটি ভাসমান এক্সকাভেটর ও চারটি বার্জ ব্যবহার করা হবে। পুরো পুনঃখনন প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। লেক সংস্কারের জন্য অনুমোদিত প্রকল্পের প্রথম ধাপ হিসেবে স্লাজ অপসারণ শুরু হয়েছে। বিস্তারিত নকশা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পুরো লেক সংস্কার করা হবে।
তিনি লেকের পরিবেশ রক্ষায় দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
ধানমন্ডি লেকের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ক্ষয় ও পরিবেশগত সমস্যা কাটিয়ে এটিকে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে ৭৫ কোটি টাকার একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে ডিএসসিসি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা এবং ‘নজরুল সরোবর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, লেকের তলদেশ পরিষ্কারের পর পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আলোকসজ্জার কাজ শুরু হবে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের সুযোগ রাখার পাশাপাশি ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও অন্যান্য অবকাঠামোও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেকের পাড় সুরক্ষা ও ঢাল স্থিতিশীল করা হবে। আধুনিক নিষ্কাশনব্যবস্থা, সংস্কার করা হাঁটার পথ, আলোকসজ্জা, সীমানাপ্রাচীর ও নিরাপত্তা রেলিংয়ের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, জনসাধারণের জন্য ঘোষণা দেওয়ার ব্যবস্থা এবং নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
বিনোদনের জন্য তিনটি ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পার্কিং সুবিধার পাশাপাশি উদ্ভিদের পরিচর্যার জন্য বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও জনবান্ধব শৌচাগারও রাখা হবে।
মাস্টারপ্ল্যানের অন্যতম আকর্ষণ ‘নজরুল সরোবর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের বিপরীতে ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে প্রায় ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমিতে এটি নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা।
এখানে নজরুলসংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা আয়োজনের জন্য উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার ও গ্রিনরুম থাকবে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও বিদ্রোহী চেতনাকে তুলে ধরতে বুক কর্নার, লাইব্রেরি ও তথ্যফলক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া নগর বন, প্লাজা ও লেকের ঘাট নির্মাণ করা হবে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের পছন্দের খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে করার পরিকল্পনাও জানিয়েছে ডিএসসিসি।
লেকের তলদেশ থেকে স্লাজ অপসারণ শেষ হওয়ার পর মূল সংস্কারকাজ এবং ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণের কাজ একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com