সংগৃহীত
দেশের রাজনীতিতে হিংসা ও প্রতিহিংসার পথ যে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়, তার প্রমাণ জাতি ইতোমধ্যেই পেয়েছে। সেই বাস্তবতা সামনে রেখে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক, কিন্তু সেটি যেন বিভাজন কিংবা সহিংসতায় রূপ না নেয়—সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অতীতে জাতি বিভক্ত হলে তার ক্ষতিকর প্রভাব কীভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে, সে অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সামনে রাজনৈতিক পথচলা সহজ হবে না। গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে হলে নিয়মিত নির্বাচন, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে ফিরে বিভিন্ন স্থানে মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তরুণ সমাজ ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজছে। শুধু তরুণ নয়, সব প্রজন্মই এখন আশার আলো দেখতে চায়। রাজনীতিবিদদের সেই প্রত্যাশা উপলব্ধি করে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই অধ্যায়গুলো সামনে রেখে যদি রাজনীতি করা যায়, তাহলে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান জানান, দল হিসেবে ২২ জানুয়ারি থেকে জনগণের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে মাঠে নামবে বিএনপি। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে গঠনমূলক আলোচনা ও দায়িত্বশীল সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হবে।
তারেক রহমান বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও নাগরিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
পানি সংকট মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী শিক্ষার প্রসার, দুর্নীতি হ্রাস, কৃষক ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু, তরুণদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, আইটি খাতের উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে মতামত দেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। এতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com