আদালত প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আল আমিনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে এই রিট আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
আদালতের শুনানির পর আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী হিসেবে পরিচিত নূরনবী বুলবুল গণমাধ্যমকে জানান, রিট আবেদনকারী মো. আল আমিন আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য বা দলীয় পদের অধিকারী নন। ফলে দলটির প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করার মতো কোনো আইনি এখতিয়ার বা অধিকার তার নেই।
রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনটিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর রুল চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর অধীনস্ত সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ গত বছরের ১২ মে প্রজ্ঞাপনটি জারি করে। আদেশে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, সভা বা সম্মেলন আয়োজন ছাড়াও প্রচলিত ও অনলাইন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা ও প্রকাশনা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।