আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে ফেলা তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ব্যারেল। ছবি: প্রতীকী
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে ফেলা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য। কয়েক দশক ধরে সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকা এসব বর্জ্যের ব্যারেল ও কনটেইনারে এখন ক্ষয় ধরেছে। ফলে সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনের বরাতে ইয়াহু নিউজ জানিয়েছে, ১৯৪৯ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে আটলান্টিকের তলদেশে অন্তত দুই লাখ ব্যারেল নিম্নমাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ফেলা হয়েছিল। এসব বর্জ্যের মধ্যে সিজিয়াম-১৩৭, প্লুটোনিয়ামের বিভিন্ন আইসোটোপ ও ট্রিটিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় উপাদান রয়েছে।
দীর্ঘ সময় লোনা পানির নিচে থাকার কারণে বর্জ্য বহনকারী ব্যারেলগুলোতে জং ধরেছে এবং অনেকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এসব ব্যারেল থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ আশপাশের সমুদ্রতল, পানি ও পলিতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে গবেষকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারেল এরই মধ্যে সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থলেও পরিণত হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যে ২০২৫ সালে ফরাসি ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের (সিএনআরএস) পরমাণু প্রকৌশলী প্যাট্রিক শার্দন এবং সামুদ্রিক ভূতাত্ত্বিক হাভিয়ের এসকার্তিনের নেতৃত্বে একটি গবেষণা অভিযান পরিচালিত হয়। মাসব্যাপী ওই অভিযানে সমুদ্রতল স্ক্যান করে ৩ হাজার ৩৫৫টি ব্যারেলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি আশপাশের পানি, পলিমাটি ও জলজ প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের মে মাসে গবেষক দলটি আবারও ওই এলাকায় অভিযান চালায়। ‘নটিল’ নামের বিশেষ সাবমেরিন ব্যবহার করে তারা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৭০০ মিটারের বেশি গভীরে নামেন। ব্যারেলগুলো কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে গবেষকরা অন্তত ২০টি ডাইভ পরিচালনা করেন।
গবেষণায় বর্জ্য ফেলার এলাকায় কোবাল্ট-৬০, নিওবিয়াম-৯৪, সিজিয়াম-১৩৭ এবং অ্যামেরিসিয়াম-২৪১-এর মতো তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
তবে গবেষকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বর্তমানে ওই এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নমুনা সংগ্রহকারী বিজ্ঞানীদের জন্য সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেনি। গবেষকদের ব্যবহৃত সাবমেরিন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতেও উল্লেখযোগ্য দূষণের আলামত পাওয়া যায়নি।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এসব তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সামুদ্রিক পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ করে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com